অনলাইন ডেস্ক: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন হাতে নেন অনেকেই। ভাবেন, আর পাঁচ মিনিট দেখেই রাখবেন। কিন্তু সেই পাঁচ মিনিট কখন যে এক ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, টের পাওয়া যায় না। ঘুম আসে দেরিতে, সকালে ওঠা কষ্টকর হয়ে পড়ে।সারা দিন জুড়ে থাকে ক্লান্তি আর মনোযোগের অভাব। ধীরে ধীরে এতে স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়, নষ্ট হয় সময়।এখনকার দিনে মোবাইল ফোন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন—সবই ফোনে।কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার অনেকের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। তাই ফোনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক ও জীবনযাপন বিশেষজ্ঞরা। চলুন, জেনে নিই কিভাবে ফোনের আসক্তি কাটাবেন।
‘নো-ফোন জোন’ তৈরি করুন
বাড়ির কিছু নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুন, যেখানে ফোন বা কোনো গ্যাজেট ঢুকবে না।যেমন—খাওয়ার ঘর বা শোওয়ার ঘর। শোওয়ার ঘর পুরোপুরি নো-ফোন জোন না করতে পারলে অন্তত ঘুমোনোর এক ঘণ্টা আগে এবং ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টা পরে ফোন দূরে রাখুন। অ্যালার্মের জন্য ফোন ব্যবহার না করে একটি অ্যানালগ ঘড়ি রাখলে সকালে ঘুম ভেঙেই ফোন ধরার প্রবণতা কমবে।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন
ফোনের বেশির ভাগ নোটিফিকেশনই জরুরি নয়, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে মনোযোগ নষ্ট করে দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।এতে বারবার ফোন দেখার অভ্যাস কমবে।
স্ক্রিন টাইম ট্র্যাক করুন
আজকের স্মার্টফোনেই রয়েছে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। অ্যানড্রয়েডে ‘ডিজিটাল ওয়েলবিইং’ আর আইফোনে ‘স্ক্রিন টাইম’ ফিচারের মাধ্যমে জানতে পারবেন, কোন অ্যাপে কতটা সময় ব্যয় করছেন। সোশ্যাল মিডিয়া বা গেমের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করে দিন।
ফোন ছাড়া পছন্দের কাজ বেছে নিন
মোবাইল না থাকলে কোন কাজটা করতে সবচেয়ে ভালো লাগে—নিজেকে প্রশ্ন করুন। বই পড়া, গান শোনা, আঁকাআঁকি, বাগান করা, রান্না করা বা প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা— যা-ই হোক, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় রাখুন সেই কাজের জন্য। এতে মনও ভালো থাকবে, মস্তিষ্কও সুস্থ থাকবে।
ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন
এক দিনে ফোন ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ধীরে ধীরে এগোন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য ফোন পুরোপুরি বন্ধ রাখুন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করবেন না। ওই সময়টা কী করবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন— ছাদে হাঁটা, গাছপালা ঘেরা জায়গায় ঘুরে আসা, বা নিঃশব্দে নিজের সঙ্গে সময় কাটানো।সূত্র : আনন্দবাজার





