২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পালিত হলো মাস্টারদা সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ৯৩তম ফাঁসি দিবস

প্রেস বিজ্হপ্তি : ব্রীটিশ বিরোধী আন্দোলনের জাতীয় বীর বিপ্লবী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন ও বিপ্লবী নেতা তারকেশ্বর দস্তিদারের ৯৩ তম ফাঁসি দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম, আন্দরকিল্লা জে.এম.সেন হল প্রাঙ্গণে মাস্টারদা সূর্য সেনের আবক্ষ মূর্তিতে বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে সকাল ৯টায় পুস্পিত অঞ্জলি নিবেদন শেষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন পরিষদের অর্থ সম্পাদক তপন ভট্টাচার্য্য, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমরেড মৃণাল চৌধুরী, কমরেড অশোক সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরজিত সেন, সাংবাদিক সুভাষ দে, সাংবাদিক সৈয়দ শিবলী ছাদেক কফিল, রাজনীতিবীদ মিটুল দাশ গুপ্ত, কমরেড সফি উদ্দিন কবির আবিদ, শিক্ষক বিজয় শঙ্কর চৌধুরী, কমরেড দীপা মজুমদার, শ্রমিক নেতা নুরুল হুদা, অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, কমরেড আসমা আক্তার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অচিন্ত কুমার দাশ, সজল দাশ, কানুরাম দে, নারী নেত্রী সুচিত্র গুহ টুম্পা, নিলয় দে, বক্তারা বলেন ১৫ জুন ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশদের সাজানো তৃতীয় অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলা ভারতীয় দন্ডবিধির ১২১/১২১-এ ধারা অনুযায়ী স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল সূর্য সেনকে দোষী সাব্যস্থ করে প্রাণদন্ডে দন্ডিত করেন। একই ধারায় তাঁরই বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা তারকেশ্বর দস্তিদারের প্রাণদন্ডের আদেশ প্রদান করা হয়। কল্পনা দত্তকে যাবজ্জীবন দন্ডাদেশ দেওয়া হয়। বক্তারা আরও বলেন বিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে একসূত্রে গাঁথা। বিপ্লবীদের পথ ধরে এদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ বির্নিমান করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে হাত ধোঁয়া দিবস থেকে শুরু করে প্রতিদিন কোন না কোন দিবস পালন করা হয়। কিন্তু ২০০ বছরের ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামের সাথে যুক্ত কোন দিবস পালন করা হয় না। এটা জাতির জন্য খুবই বেদনাদায়ক ও পালন করতে রাষ্ট্রের কোন অর্থের অপচয় হয় না। যে জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যত বেশি দীর্ঘ সে জাতি ইতিহাস ঐতিহ্যে সংস্কৃতিতে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি জাতির সংস্কৃতি তাদের আত্মপরিচয়, মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্যকে ধারণ করে, সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গেলে জাতি তার শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নিজের স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে ফেলে। আজকে আমাদের দেশে স্বাধীনতার ৫৪ বছরে অনেক, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গেছে শুধুমাত্র কিছু হীন স্বার্থলোভী রাজনীতিবিদ ও বিশেষ করে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর্যন্ত যেসমস্ত সরকার দেশ পরিচালনা করছেন তাঁদের পরিকল্পনাহীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে। আমরা সরকারের কাছে জোড় দাবী জানাচ্ছি সাঁওতাল বিদ্রোহ , ফকির সন্ন্যাসী, সিপাহী বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা দিবস, যুব বিদ্রোহ দিবস, মাস্টারদা সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি দিবস, বীরকন্যা প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবস সহ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান দিবসগুলোকে রাষ্ট্রীয় ভাবে পালন করার জন্য সরকারের কাছে গত ১২ বছর ধরে জোর দাবি জানিয়ে আসছি। পরিশেষে বলেন যতদিন আমাদের দেশে সংগ্রামী মানুষ থাকবে, ততদিন এই জনসমুদ্রে সূর্য সেন ও তারকেশ্বর অন্যতম প্রেরণা হয়ে চির জাগরূক থাকবে।

আরও পড়ুন