অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির মনোনয়ন না পেলেও ভোটে লড়তে অনড় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অবশেষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসন থেকে ভোটে লড়বেন। তিনি হাঁস প্রতীক চাইবেন বলে জানা গেছে।রুমিন ফারহানার বাবা ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিবিদ অলি আহাদ ১৯৭৩ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন কুমিল্লা-২ আসনে নির্বাচন করেন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরের কাছে পরাজিত হন। অভিযোগ রয়েছে, অলি আহাদকে তখন পরাজিত করা হয়। জোর করে সেই পরাজয়ের বিষয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আলোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা।
একইসঙ্গে ভোটের মাঠে বাবার এলাকা থেকেই লড়বেন বলে আলোচনা করতেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে আসনটি জোটের জন্য ছেড়ে দিয়ে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।অলি আহাদের বাড়ি বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরে।
ওই উপজেলার ইসলামপুর ও বুধন্তী ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন রুমিন ফারহানা। এ দুটি ইউনিয়নের ভোট নির্বাচনের মাঠে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২৪ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানার পক্ষে সরাইলের সহকারী রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সাবেক যুবদল নেতা মো.আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘দল মনোনয়ন না দিলেও আামদের নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে লড়বেন।
জনগণ তাঁর পক্ষে রয়েছে। এ কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনামতোই মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়েছে।’
বিএনপি নেতা মো. জুনায়েদ খান বলেন, ‘রুমিন ফারহানা হলেন মাঠের নেতা। দল ওনাকে মনোনয়ন না দিলেও জনগণ পক্ষে আছে। আমরা ওনার হয়ে লড়ব। যদি দল ব্যবস্থা নেয় নিতে পারে। ভোটে আমরা জয়লাভ করব বলে আশাবাদী।’গত ২৩ ডিসেম্বর গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি দেওয়া হয় উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যাপক আলোচনায় ছিল ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়ন। ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। সেই তালিকায় তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কারো নাম ঘোষণা করেনি দলটি। ২০ ডিসেম্বর বিকেলে উপজেলার সৈয়দটুলা গ্রামের খেলার মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচন করার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। নিজের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রসঙ্গ টেনে রুমিন বলেন, ‘আমি জানি না বাপের মতো বেটিরও কপাল আছে কি-না। বাপ স্বতন্ত্র ছিলেন, বেটিও স্বতন্ত্র—সময়ই এর উত্তর দেবে। মনোনয়ন আমি কিনব না। এই মনোনয়ন আমার এলাকার ভোটারদের। তারা যদি মনে করেন, তবেই সেটা আমার হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ১৯৭৩ সালে আপনাদের বাপ-দাদার ভোটে স্বতন্ত্র নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তখন শেখ হাসিনার বাপ শেখ মুজিবুর রহমান আমার বাপকে জিততে দেননি।’
জোটের স্বার্থে দল এ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপি এত বড় দল। তাদের ভালো-মন্দ দেখতে হয়। যেহেতু জমিয়তে উলামায়ের সঙ্গে তাঁরা জোট করেছেন, আসন না দিলে কেমন করে জোট হবে? দল বাধ্য হয়ে তাদেরকে আসন দিয়েছে।’





