অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২৫ সালে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। এবার রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। যা গত বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।২০২৫ সালে সরকারকে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দিয়ে পরিণত হয়েছে বড় রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক মো. ওমর ফারুক এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ হ্যান্ডলিং করে। ২০২৫ সালে এ বন্দর ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস (২০ ফুট হিসেবে) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিকটন কার্গো এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে।
আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউএস কনটেইনার, ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ মেট্রিকটন কার্গো এবং ৪০৬টি জাহাজ বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। এবার কনটেইনারে ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ, কার্গোতে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জাহাজে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিচালিত কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬৮ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যাতে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে কাস্টমসের কর্মবিরতি, বিভিন্ন ধর্মঘটসহ নানা কারণে বন্দরসহ দেশের লজিস্টিক্স খাতে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বন্দরে জাহাজের ওয়েটিং টাইম কমেছে।এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ৯ দিন, অক্টোবরে ১৮ দিন, নভেম্বরে ২৬ দিন এবং ডিসেম্বরে ২৬ দিন জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য ছিল। এখন বন্দরে অন অ্যারাইভাল বার্থ পাচ্ছে জাহাজ। গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর জাহাজের Turn Around Time ছিল ২ দশমিক ৫৩ তিন এবং Container Dwell Time ছিল ৯ দশমিক ৪৪ দিন।
বন্দরের পরিচালক জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক পোর্ট ইকোসিস্টেম, পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম প্রবর্তন, ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে বিশ্বমানের বন্দরে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএসের অফিশিয়াল রিপোর্টে জিরো অবজারভেশন পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালে বন্দরে ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। প্রচুর হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। বন্দরের ভারী কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য লালদিয়া (ব্লক এ, উত্তর) এলাকায় জেটি তৈরি করা হচ্ছে। বে টার্মিনালে একটি মাল্টিপারপাস ও দুইটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি জিটুজি পদ্ধতিতে পিএসএ (সিঙ্গাপুর) এবং অপরটি ডিপি ওয়ার্ল্ড (দুবাই) পরিচালনা করবে। বে টার্মিনালে ব্রেকওয়াটার ও এক্সেস চ্যানেল ড্রেজিংয়ের জন্য একটি প্রকল্প গত ২০ এপ্রিল একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে। শিগগির নির্মাণকাজ শুরু হবে।
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও অপারেশনের জন্য গত ১৭ নভেম্বর ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস বিভি’র সঙ্গে ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। টার্মিনালটি ২০২৯ সালের মাঝামাঝিতে অপারেশনে যাবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক মেডলগ বাংলাদেশের সঙ্গে ২২ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছে।





