২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপিপন্থি ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা

অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে নিয়ে আদালত বর্জন, বিক্ষোভ কর্মসূচি ও এজলাসে হট্টগোলের ঘটনায় বিএনপিপন্থি ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে কোতয়ালি মডেল থানায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ মামলা করেছেন বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় এজহারনামীয় ১২ জনসহ অজ্ঞাত আরও আট জনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার প্রধান আসামি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নামধারী অন্য আসামিরা হলেন- বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন ও বসিরউদ্দিন সবুজ।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন, একটি মামলার আসামির জামিনকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা করে বিচারকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়। আসামিরা বিচারকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে আদালতে ভীতিকর পরিবেশ ও জনমনে ত্রাসের সৃষ্টি করে।
দুপুর আড়াইটার দিকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহ’র এজলাসে প্রবেশ করে শুনানিরত আইনজীবীকে শুনানি করতে নিষেধ করেন। এ সময় আসামিরা শুনানি করা আইনজীবীকে হুমকি দেন। এজলাসে থাকা সব আইনজীবীকে বের হওয়ার নির্দেশ দেন সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন। এ সময় এক আইনজীবীকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেন সভাপতি।
আইনজীবী মিজানুর রহমান বিচারককে এজলাস থেকে নেমে যেতে বলেন। জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকে এজলাস থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এ সময় ডায়াস মাইক্রোফোন ভাঙচুর করা হয়, এজলাসের বেঞ্চ, টেবিল ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়াও এজলাসে থাকা কজলিস্ট ও মামলা দায়েরের রেজিস্ট্রার ছিঁড়ে ফেলেছে।

আরও পড়ুন