২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রাইভেট শিক্ষিকার বাড়ি থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নে নিখোঁজের ২১ দিন পর মা ও মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪)। মুক্তিরবাগ এলাকার নিহত ফাতেমার প্রাইভেট শিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাট থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বামী নাম মো. শাহিন আহমেদ পেশায় একজন আইনজীবীর মুহুরি।আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি জানান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।ওসি জানান, নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহিন আহমেদ গত ১৯ ডিসেম্বর তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে যান। সেখান থেকে ২৭ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের গোপপাড় তার ভাড়া বাসায় ( ইসমাইল হোসেনের বাড়ি) ফিরে এসে তিনি তার বাসা তালাবদ্ধ দেখতে পান। তখন আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন যে ২৫ ডিসেম্বর থেকে তার মেয়ে ও স্ত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
তখন শাহিন আহমেদ আরো জানতে পারে ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে তার মেয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম মুক্তিরবাগ বাজার সংলগ্ন প্রাইভেট শিক্ষিকা মিমের বাসায় পড়তে যায়, এরপর মিম একইদিন সন্ধ্যায় রোকেয়াকে ফোন করে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে মা-মেয়ে দুজনই নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ঘটনায় শাহিন আহমেদ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ২৭ ডিসেম্বর একটি নিখোঁজ জিডি দায়ের করেন। জিডি করার পর থেকে পুলিশ প্রাইভেট শিক্ষিকার বাড়ির সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে।
সেখানে দেখা যায় তার মেয়ে বিকেলে মিমের বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং তার স্ত্রী পাশের একটি রুমে যান। এরপর আর সিসি ফুটেজে দেখা যায়নি। এ ঘটনার পর শাহিন আহমেদ গত ৬ জানুয়ারি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে অপহরণ মামলা করেন।
তিনি জানান, গতকাল ১৫ জানুয়ারি বিকেলে মিমের বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় লোকজন জাতীয় সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন করেন। আমরা শিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে খাটের নিচ থেকে মা রোকেয়ার লাশ ও বাথরুমের ফলস ছাদ থেকে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠাই।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রাইভেট শিক্ষিকা মিম আক্তার (২৪), তার স্বামী মো. হুমায়ুন বেপারী, মিমের ছোট বোন নুসরাত নুরজাহান (১৫) ও মাহি (১১) নামের চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।
নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহিন আহমেদ জানান, আমার মেয়ে ফাতেমা স্থানীয় সততা স্কুল থেকে এ বছর অষ্টম শ্রেণি পাস করেছে। কালিন্দী গার্লস স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ওই স্কুলের শিক্ষিকা ঘাতক মিমের কাছে প্রাইভেট পড়তে দিই। এই প্রাইভেট পড়তে দিয়েই আমার কাল হলো। আমি স্ত্রী-সন্তান দুজনকেই হারালাম। আমি এ হত্যার বিচার দাবি করছি।

আরও পড়ুন