১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তরুণ প্রজন্মের চরিত্র গঠনে খেলাধুলা অতীব গুরুত্বপূর্ণ: সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার চেলের ঘাট এলাকায় ১৭৩ একর জমির মধ্যে অলিম্পিক ভিলেজ উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আগামী দিনে এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে রূপান্তরিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অলিম্পিক ভিলেজ উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান।
এর আগে এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখছি।বিভিন্ন স্থানে আমরা জায়গা দেখেছি, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। তারপর আমি ত্রিশালের স্পোর্টস স্কুল এলাকায় অলিম্পিক ভিলেজ করার সিদ্ধান্ত নেই। এখানে সব ধরনের সুবিধা সহজেই পাওয়া যাবে। এতে আমরা জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়ায় ভালো অবদান রাখতে পারবো।
পাশাপাশি এখানে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করবেন জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, এতে সেনাবাহিনী এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে একটা যৌথ প্রচেষ্টা থাকবে। এখানে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব প্রতিযোগিতা অগ্রাধিকার পাবে। দেশীয় ক্রীড়াবিদরাও এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।সেনাপ্রধান আরও বলেন, আমাদের স্বপ্ন অনেক, বিশাল বড় স্বপ্ন।
আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে— কী অবকাঠামো এতে থাকবে। এর জন্য প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। আমরা এক মাসের মধ্যে জমি কিনে এটার সূচনা করেছি। এ জন্য চব্বিশ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এবং জিওসি ১৯ পদাতিক ডিভিশনকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, তারা সুন্দরভাবে এই কাজটা করেছে। কিন্তু এখানে অনেক কাজ আছে, এটার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে।
যত তাড়াতাড়ি আমরা অর্থ পাব, তত তাড়াতাড়ি কমপ্লেক্সটি তৈরি হবে। কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড রেডি আছে, আর্কিটেক্টও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাইরের পরামর্শক এবং আর্কিটেক্টরাও এসেছেন, সবকিছুই সেট।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, অলিম্পিক কমপ্লেক্স একটি জাতীয় পর্যায়ের বড় কাজ। আমাদের যারা তরুণ প্রজন্ম আছে, যুবক-যুবতী যারা আছে, তাদের বেশি বেশি করে আমরা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাইছি। এতে চরিত্র গঠনের একটি বিশাল কাজ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি জীবনে কোনো ক্রীড়াবিদকে খারাপ কাজে জড়িত হতে দেখিনি, এটাই খেলাধুলার মাহাত্ম্য। কোনো ক্রীড়াবিদ কখনো নেশা করে না। এজন্য আমি মনে করি দেশের তরুণ প্রজন্মের চরিত্র গঠনের জন্য খেলাধুলা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে তরুণ প্রজন্মেরও খেলাধুলায় আগ্রহের কোনো কমতি থাকবে না।
আমাদের সুযোগ-সুবিধা নেই, পরিবেশ নেই উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স তৈরি হলে এখানে খেলাধুলার সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এতে থাকবে আবাসিক এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ। পাশাপাশি এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের সঙ্গে যদি একটি শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে যাতায়াত সুবিধা আরও বেড়ে যাবে। আমরা স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ কাজ শুরু হয়ে গেছে, এক সময় এটার কাজ শেষ হবে। তখন এটা হবে দেশ এবং জাতির জন্য একটি বড় কাজ। একদিন এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে রূপান্তরিত হবে। এশিয়ান গেমসের মতো বড় বড় খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহাবুবুল আলম, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা, অলিম্পিক কমপ্লেক্স প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল কুতুব প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত সবার উদ্দেশে একটি সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে নির্মাণাধীন এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের নানা দিক তুলে ধরা হয়।এর আগে সকাল ১০টায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন।
এরপর তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখান থেকে সেনাপ্রধান হেলিকপ্টারযোগে ত্রিশালের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছান। সেখানে সেনা সদস্যদের সালাম গ্রহণ করে তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আরও পড়ুন