৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কমেছে যানবাহন, জ্বালানি সংকট

মিরসরাই প্রতিনিধি : দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়। দেশের লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে যানবাহন চলাচল। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস চলাচল কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে অনেক যানবাহন নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।
এদিকে বারৈয়ারহাট, মিঠাচড়া, মিরসরাই সদর, বড়তাকিয়া ও নিজামপুর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাসের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, তেল সংকট ও পাম্প বন্ধ থাকার কারণে সীমিত সংখ্যক বাস ছাড়া হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। বড়তাকিয়া কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম। পণ্যবাহী যানবাহন কম থাকায় চালান কমে গেছে, ফলে কাঁচামালের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
অন্যদিকে এলপিজি গ্যাসের বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সরকারি দর নির্ধারণের আগেই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক পরিবেশক কোম্পানি আগাম দাম বাড়িয়ে গ্যাস সরবরাহ করছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।
বড়তাকিয়া বাজারে কাউন্টারে অপেক্ষা করা ইমতিয়াজ উদ্দিন নামের এক যাত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বসে আছি, কিন্তু বাস পাচ্ছি না। যেগুলো আসছে সেগুলোও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে।বারৈয়ারহাটে চয়েস বাস চালক সাব মিয়া জানান, পাম্পে তেল না থাকায় নিয়মিত গাড়ি চালাতে পারছি না। যেটুকু তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে সীমিতভাবে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, তেল সঙ্কটের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

আরও পড়ুন