নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজ হ্যান্ডেলিং, কনটেইনার ও কার্গো পরিবহনে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বিদায়ী বছরে চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজ হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ ৪ হাজার ২৭৩টি, যা গত বছর ছিল ৩ হাজার ৮৬৭টি। এছাড়া কনটেইনার পরিবহন করে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯টিইইউএস এবং কার্গো পরিবহন করে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, অবকাঠামো উন্নয়ন, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলেই এই অগ্রগতি এসেছে। সামনে আরও নতুন টার্মিনাল চালু হলে এবং বে-টার্মিনালসহ বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বন্দর ৪০৬টি জাহাজ বেশি হ্যান্ডেলিংয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউএস কনটেইনার এবং ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করেছে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত বছরে জাহাজ হ্যান্ডেলিং, কনটেইনার পরিবহন ও কার্গো পরিবহনে একযোগে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এ সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডেলিংয়ে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এরমধ্যে কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বাল্ক কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক মো ওমর ফারুক বলেন, শেষ বছরে (২০২৫) কাস্টমসের কলমবিরতি, বিভিন্ন ধর্মঘট, দেশের পরিবর্তনশীল নাজুক পরিস্থিতিসহ অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাব বন্দরসহ দেশের লজিস্টিক খাতে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এতে চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার কথা না বললেই নয়।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে। এছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষ ৯ দিন থেকে এখন পর্যন্ত জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য হওয়ায় অর্জন উল্লেখযোগ্য হয়েছে।





