২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খালেদা জিয়ার জানাজা, মানিক মিয়ায় লাখো মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া এভিনিউ অভিমুখে ছুটছে লাখো মানুষ। প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে অনেককে দেখা গেছে হাউমাউ করে কাঁদতে। রাজধানীজুড়ে নেমেছে শোক আর শ্রদ্ধার মানুষের স্রোত।বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ঢাকায় আসছেন। ভোলার দৌলতখান থেকে লঞ্চে করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সকালে সদরঘাটে নেমে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। দৌলতখান উপজেলা বিএনপির নেতা শাহজাহান সাজুকে কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি প্রিয় নেত্রীর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কথা বলতে না পারার এমন দৃশ্য দেখা গেছে অসংখ্য নেতাকর্মীর মাঝেই।
এদিকে সকালে গুলশানে মায়ের মরদেহের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ি জানাজাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।আজ সকাল সোয়া ৯টার দিকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে আনা হয় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ। গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায়—যেখানে তারেক রহমান অবস্থান করছেন—সেখানে মরদেহ নেওয়া হয়। ওই বাসভবনে পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। পাশেই রয়েছে ‘ফিরোজা’—দীর্ঘদিনের বাসভবন, যেখানে বেগম খালেদা জিয়া বসবাস করতেন।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দিয়ে মানুষের ঢল নেমেছে। মানিক মিয়া এভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়াও শেরেবাংলা নগরের জিয়াউর রহমানের সমাধিসৌধ এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রয়াত স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে। দাফন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর ইন্তেকালে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো দেশ।

আরও পড়ুন